ঢাকা  শনিবার, ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Homeবিশ্বপর্তুগালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থী প্রার্থীর উত্থানের আশঙ্কা

পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থী প্রার্থীর উত্থানের আশঙ্কা

পর্তুগালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই নির্বাচনে দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো কট্টর ডানপন্থী প্রার্থী দ্বিতীয় দফার ভোটে (রান-অফ) পৌঁছাতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত ফলাফল কী হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

লিসবন থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি জানায়, জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে কট্টর ডানপন্থী দল ‘চেগা’র নেতা আন্দ্রে ভেনচুরা প্রথম দফায় এগিয়ে থাকতে পারেন। তবে দ্বিতীয় দফায় উঠলেও যেকোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে তিনি পরাজিত হতে পারেন বলে পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে গত চার দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফায় কোনো প্রার্থী সরাসরি জয় না পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রথম দফায় জয়ের জন্য প্রার্থীকে ৫০ শতাংশের বেশি ভোট অর্জন করতে হয়।

রেকর্ড ১১ জন প্রার্থীর মধ্য থেকে মাত্র পাঁচ জনের দ্বিতীয় দফায় যাওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য চূড়ান্ত ভোটে তাঁরা বর্তমান রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট মার্সেলো রেবেলো দে সুসার উত্তরসূরি হওয়ার প্রতিযোগিতায় থাকবেন।

৪৩ বছর বয়সী আন্দ্রে ভেনচুরার পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছেন সমাজতান্ত্রিক নেতা আন্তোনিও হোসে সেগুরো, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের উদারপন্থী সদস্য জোয়াও কোট্রিম ফিগেইরেদো, ডানপন্থী জোটের প্রার্থী লুইস মার্কেস মেন্দেস এবং সাবেক নৌবাহিনী প্রধান এনরিক গুভেইয়া ই মেলো। কোভিড টিকাদান কর্মসূচির নেতৃত্ব দেওয়ার মাধ্যমে ই মেলো দেশজুড়ে পরিচিতি লাভ করেন।

জরিপ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফায় ভেনচুরার সম্ভাব্য চার প্রতিদ্বন্দ্বীর যে কেউই তাকে বড় ব্যবধানে হারাতে পারেন।

রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে রাত ৮টায় শেষ হবে। এরপরই ফলাফলের প্রাথমিক ঘোষণা আসতে পারে।

গত মে মাসে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থী চেগা দল ২২ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে ৬০টি আসন অর্জন করে এবং সমাজতান্ত্রিক দলকে পেছনে ফেলে সংসদের সবচেয়ে বড় বিরোধী দলে পরিণত হয়।

পর্তুগালের প্রেসিডেন্টের সরাসরি নির্বাহী ক্ষমতা না থাকলেও সংকটকালে তিনি সংসদ ভেঙে দেওয়া, নতুন নির্বাচন আহ্বান কিংবা প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করার ক্ষমতা রাখেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ভেনচুরা এই নির্বাচনকে মূলত নিজের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের মঞ্চ হিসেবে দেখছেন। ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লক্ষ্যেই তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

লিসবন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আন্তোনিও কস্তা পিন্তো বলেন, ভেনচুরা এই নির্বাচনের মাধ্যমে নিজের ভোটব্যাংক ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।

কট্টর ডানপন্থীদের শক্তিশালী অবস্থান ডানপন্থী নেতা লুইস মার্কেস মন্তেনেগ্রোর সংখ্যালঘু সরকারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। কারণ সরকারকে বেশ কিছু নীতিনির্ধারণে চেগা দলের সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

পরামর্শক প্রতিষ্ঠান টেনিও এক বিশ্লেষণে জানিয়েছে, কট্টর ডানপন্থীদের আরেকটি ভালো ফল রাজনৈতিক অঙ্গনে তাদের প্রভাব আরও দৃঢ় করবে।

পর্তুগালকে ‘শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনার’ প্রতিশ্রুতি দেওয়া ভেনচুরা যদি দ্বিতীয় দফায় সমাজতান্ত্রিক প্রার্থী সেগুরোর মুখোমুখি হন, সে ক্ষেত্রে ডানপন্থী অন্যান্য দলের প্রতি তার পক্ষে অবস্থান নিতে বাধা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে সেগুরো দাবি করেছেন, ভেনচুরার ‘চরমপন্থী রাজনীতি’ মোকাবিলা ও পরাজিত করার সক্ষমতা একমাত্র তারই রয়েছে।

প্রায় এক কোটি ১০ লাখ জনসংখ্যার পর্তুগাল ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউরোজোনের সদস্য। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট জিডিপির প্রায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ আসে দেশটি থেকে।

RELATED ARTICLES