নতুন বিএনপি সরকারের ৫০ সদস্যের মন্ত্রিপরিষদে ব্যবসায়ীদের আধিপত্য লক্ষ্যণীয়। এতে দেখা গেছে ৩৫ জন বা ৭০ শতাংশ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ব্যবসা পেশার সাথে যুক্ত। হলফনামায় ১৯ জন মন্ত্রী ও ১৬ জন প্রতিমন্ত্রী ব্যবসা তাদের পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ব্যবসায়ীর পর মন্ত্রিপরিষদে সবচেয়ে বেশি উপস্থিতি আইনজীবীদের রয়েছে। কেউ কেউ একাধিক পেশাও উল্লেখ করেছেন।
হলফনামা অনুযায়ী, মাত্র দু’জন মন্ত্রী নিজেদের পেশা রাজনীতিবিদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বাকি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা যদিও রাজনীতিতে সক্রিয়, তাদের বিকল্প পেশা রয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে রয়েছেন—স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ; মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু; ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ; ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু; বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির; শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী; তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন; কৃষি, খাদ্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ; বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা) এবং আরও অনেকে।
প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে ১৬ জন ব্যবসায়ী। এদের মধ্যে রয়েছেন—বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত; বাণিজ্য এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত; শিল্প, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম; পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম; কৃষি, খাদ্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু; পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ; যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক; সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ ও রাজিব আহসান ইত্যাদি।
আইনজীবীর সংখ্যা ছয়, চিকিৎসক দুইজন, এবং কিছু মন্ত্রীর পেশা একাধিক ক্ষেত্রে বিস্তৃত। মন্ত্রিপরিষদে ব্যবসায়ীদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে টিআইবি সতর্ক করেছেন যে স্বার্থের দ্বন্দ্ব এড়িয়ে চলা অত্যন্ত জরুরি। অন্যদিকে, ডিসিসিআই সভাপতি বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, কারণ ব্যবসায়ীদের অভিজ্ঞতা অর্থনীতি, আইন এবং ব্যাংকিং সমস্যার সমাধানে কাজে লাগতে পারে।
এছাড়া, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী ১৭৪ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৫৯ শতাংশই ব্যবসায়ী। বিএনপির ২০৯ জয়ী প্রার্থীর মধ্যে ১৪৫ জন ব্যবসায়ী, আর জামায়াতের ৬৮ আসনের মধ্যে ২০ জন ব্যবসায়ী। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে জাতীয় সংসদে ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি ক্রমবর্ধমান, ১৯৭৩ সালে ১৮ শতাংশ, ১৯৯১ সালে ৩৮ শতাংশ, এবং বর্তমান সংসদে অর্ধেকের বেশি এমপি ব্যবসায়ী।

