অভিবাসনবিরোধী অভিযানের প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট অস্থির পরিস্থিতির কারণে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে সম্ভাব্য মোতায়েনের জন্য ১ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনাকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দিয়েছে পেন্টাগন। রোববার যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গণমাধ্যম এই তথ্য জানায়। ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর নিশ্চিত করেছে।
এই প্রস্তুতির খবর আসে এমন এক সময়, যখন কয়েক দিন আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ইনসারেকশন অ্যাক্ট’ প্রয়োগের হুমকি দিয়েছিলেন। ওই আইন ‘সশস্ত্র বিদ্রোহ’ বা ‘ঘরোয়া সহিংসতা’ মোকাবিলায় সামরিক বাহিনী ব্যবহারের সুযোগ দেয়। যদিও পরদিনই ট্রাম্প জানান, আপাতত আইনটি কার্যকর করার প্রয়োজন নেই।
এবিসি নিউজ প্রথম সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতির খবর প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, আলাস্কায় অবস্থানরত সক্রিয় দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর ১ হাজার ৫০০ প্যারাট্রুপারকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। তবে তাদের মোতায়েনের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি প্রেসিডেন্ট।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে রোববার এএফপি পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে ‘ইনসারেকশন অ্যাক্ট’ সর্বশেষ প্রয়োগ করা হয়েছিল তিন দশকেরও বেশি আগে। ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত মিনেসোটায় কেন্দ্রীয় প্রশাসন ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মিডওয়েস্ট অঞ্চলের এই অঙ্গরাজ্যের প্রধান শহর মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে গত ৭ জানুয়ারি এক ফেডারেল এজেন্টের গুলিতে এক মার্কিন নারী নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
শনিবার মিনেসোটা ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক সেফটি জানায়, গভর্নর টিম ওয়ালজের নির্দেশে রাজ্যের ন্যাশনাল গার্ডকে মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে তারা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোকে সহায়তা দিতে পারে। জরুরি পরিস্থিতিতে অঙ্গরাজ্যের সামরিক রিজার্ভ বাহিনী ব্যবহারের সাংবিধানিক ক্ষমতা গভর্নরের রয়েছে।
রোববার মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে বলেন, অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ সংস্থার প্রায় ৩ হাজার ফেডারেল এজেন্ট শহরে প্রবেশ করেছে। তিনি এসব বাহিনীকে কার্যত ‘দখলদার শক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সিবিএসের ‘ফেস দ্য নেশন’ অনুষ্ঠানে মেয়র ফ্রে জানান, নগরীতে মোতায়েন থাকা ফেডারেল এজেন্টের সংখ্যা স্থানীয় ৬০০ সদস্যের পুলিশ বাহিনীর তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। একই সঙ্গে তিনি ১ হাজার ৫০০ ফেডারেল সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতির খবর নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
মেয়র বলেন, “এটি নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়। কয়েক হাজার মানুষ নিয়ে শহরে ঢুকে কেবল লাতিনো বা সোমালি পরিচয়ের কারণে সাধারণ জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাই মিনিয়াপোলিসের মানুষ প্রতিবাদে মুখ খুলছে।”
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টি নোয়েম বলেন, সব বিপজ্জনক ব্যক্তিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং নিজ নিজ দেশে ফেরত না পাঠানো পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এর আগে গত জুন ও জুলাই মাসে লস অ্যাঞ্জেলেসে কড়া অভিবাসন অভিযানকে কেন্দ্র করে তীব্র বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে পেন্টাগন প্রায় ৭০০ মার্কিন মেরিন মোতায়েন করেছিল। সে সময়ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘ইনসারেকশন অ্যাক্ট’ প্রয়োগের হুমকি দিলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করেননি। তখন সেনাদের দায়িত্ব মূলত বৃহত্তর লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকার দুটি ফেডারেল স্থাপনা পাহারা দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

