উন্নয়ন বার্তা প্রতিবেদন:
বাংলাদেশে ডিজিটাল লেনদেনকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে আরও সক্রিয় হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে দেশের সব ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) ও পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরদের (পিএসও) প্রধান কার্যালয়ে নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ ইউনিট’ গঠন করতে নির্দেশ দিয়েছে।
সোমবার ১৬ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনে এই নির্দেশনা দিয়েছে। ৩১ মার্চের মধ্যে সব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে এই ইউনিট গঠন করতে হবে।
ইউনিটের কাঠামো ও জনবল নিয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ব্যাংকের ক্ষেত্রে এই ইউনিটের সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকবেন পেমেন্ট সিস্টেম কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) বা সমপর্যায়ের কর্মকর্তা। এমএফএস, পিএসপি ও পিএসওর ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ঠিক এক ধাপ নিচের একজন কর্মকর্তা এই দায়িত্ব পালন করবেন। জনবলের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলোর এই ইউনিটে কমপক্ষে চারজন কর্মকর্তা এবং এমএফএস ও অন্য প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কমপক্ষে দুজন কর্মকর্তা থাকতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ব্যাংকগুলোতে একজন উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) পদমর্যাদার কর্মকর্তা ‘ফোকাল পয়েন্ট’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
অন্যদিকে, এমএফএস ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দুই ধাপ নিচের কর্মকর্তা এই দায়িত্ব পাবেন। এ ছাড়া তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের জন্য সহকারী ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে ব্যাংকের ক্ষেত্রে সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার (এসপিও) এবং এমএফএসের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের তিন ধাপ নিচের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দিতে হবে।
এই ইউনিটের প্রধান কাজ হবে ডিজিটাল পেমেন্ট প্রসারে লক্ষ্যমাত্রাভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ও ‘রোডম্যাপ’ প্রণয়ন করা। তারা বাংলা কিউআর, পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) ও অনলাইন কার্ড পেমেন্ট সম্প্রসারণে কাজ করবে। প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অ্যাপে গ্রাহকদের নিবন্ধন ও ব্যবহারে উৎসাহিত করার পাশাপাশি দেশব্যাপী মার্চেন্ট অন বোর্ডিং কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার দায়িত্বও থাকবে এই ইউনিটের ওপর। এ ছাড়া শাখা পর্যায়ে ক্যাশলেস কার্যক্রম তদারকি, কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতা তৈরিতে নিয়মিত সেমিনার ও ক্যাম্পেইন পরিচালনা করতে হবে।
গ্রাহকের স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করা, অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং ডিজিটাল লেনদেনের ঝুঁকি কমানোর বিষয়গুলোও এই ইউনিটের কর্মপরিধির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি পেমেন্ট ইকোসিস্টেম গঠনে স্থানীয় সরকার, সিটি করপোরেশন এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করবে এই ইউনিট।
সময়সীমা ও প্রতিবেদন দাখিল বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশ দিয়েছে যে ৩১ মার্চের মধ্যে সব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে এই ইউনিট গঠন করতে হবে এবং বিস্তারিত তথ্য নির্ধারিত ছকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দিতে হবে। এ ছাড়া প্রতিবছর মার্চের শেষ কার্যদিবসের মধ্যে ক্যাশলেস কার্যক্রমের বার্ষিক প্রতিবেদন এবং পর্ষদ সভার কার্যবিবরণী বাংলাদেশ ব্যাংকে দাখিল করতে হবে।

