ঢাকা  বুধবার, ২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Homeখেলাসেনেগালের ট্রফি জয়ে হতাশায় মরক্কোর ভক্তরা

সেনেগালের ট্রফি জয়ে হতাশায় মরক্কোর ভক্তরা

অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় ফাইনালে সেনেগাল ১-০ গোলে স্বাগতিক মরক্কোকে হারিয়ে আফ্রিকান নেশন্স কাপের শিরোপা জিতে নেয়। শনিবার রাতে রাজধানী রাবাতের প্রিন্স মৌলাই আবদেল্লাহ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচ শেষে চরম হতাশায় মাঠ ছাড়েন মরক্কোর সমর্থকরা।

শীতল ও বৃষ্টিস্নাত রাতে চূড়ান্ত বাঁশি বাজার আগেই ‘এ্যাটলাস লায়ন্স’-এর বহু সমর্থক গ্যালারি ত্যাগ করতে শুরু করেন। ফাইনাল শেষে ৩০ বছর বয়সী সমর্থক ইসমাইল কোরাজ বলেন, “২০০৪ সালে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ফাইনালে যেমন কেঁদেছিলাম, আজ রাতেও সেই কষ্ট ফিরে এলো। এটা মেনে নেওয়া সত্যিই কঠিন।”

রাবাতের কেন্দ্রস্থলে মরক্কোর পতাকায় সাজানো একটি ক্যাফেতেও ছিল হতাশার আবহ। তবে ৩২ বছর বয়সী ফুটবলপ্রেমী লাইলা বুরেজমা বলেন, “মরক্কো মাথা উঁচু করেই হেরেছে। হারটা কষ্টের, তবে খেলোয়াড়রা সর্বোচ্চটা দিয়েছে।”

আরেক সমর্থক ওমাইমা বুকরাব বলেন, “পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে মরক্কো দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছে। খেলোয়াড়রা প্রশংসার দাবিদার। আমরা তাদের নিয়ে গর্বিত।”

ম্যাচের শেষ মুহূর্তে পাওয়া একটি বিতর্কিত পেনাল্টিতে মরক্কো ৫০ বছরের শিরোপা খরার অবসান ঘটানোর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছালেও সেনেগালের গোলরক্ষক এডুয়ার্ড মেন্ডি ব্রাহিম দিয়াসের শট ঠেকিয়ে দেন। পেনাল্টি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সেনেগালের খেলোয়াড়রা মাঠ ছেড়ে গেলে প্রায় ২০ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে।

অতিরিক্ত সময়ের চতুর্থ মিনিটে পেপ গোয়ের করা একমাত্র গোলেই জয় নিশ্চিত করে সেনেগাল। সেই গোল স্বাগতিক দর্শকদের হতবাক করে দেয় এবং ১৯৭৬ সালের পর প্রথমবার শিরোপা জয়ের মরক্কোর স্বপ্ন ভেঙে যায়।

ম্যাচ শেষে স্টেডিয়ামের বাইরে উল্লাসে মেতে ওঠেন সেনেগালের সমর্থকরা। ২০২১ সালের পর এটি তাদের দ্বিতীয় আফ্রিকান নেশন্স কাপ শিরোপা।

৪২ বছর বয়সী সেনেগাল সমর্থক আবদুল বলেন, “আমরা জিতেছি, তবে মরক্কো সবসময় আমাদের হৃদয়ে আছে। বলা যায়, আজ দুই আফ্রিকান দেশই বিজয়ী।”

৬৬ হাজার ৫২৬ দর্শকের মধ্যে মরক্কোর সমর্থকই বেশি থাকলেও সেনেগালের তুলনামূলক কমসংখ্যক সমর্থকের উচ্ছ্বাস স্পষ্ট ছিল। আরেক সমর্থক সালিম বম বলেন, “আজ সেনেগাল জিতেছে, কাল মরক্কো জিতবে। তারা আমাদের ভাই, এখানে আমাদের দারুণভাবে স্বাগত জানিয়েছে।”

ম্যাচের শেষদিকে কঙ্গোলিজ রেফারি জিন-জ্যাক এনদালার দেওয়া পেনাল্টির সিদ্ধান্ত ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কিছু সেনেগালিজ সমর্থক চেয়ার ছুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও মাঠে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। খেলা পুনরায় শুরু হলে পেনাল্টি সেভের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষোভ রূপ নেয় উল্লাসে।

RELATED ARTICLES