ঢাকা  বুধবার, ২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Homeউন্নয়নপোলট্রি উন্নয়ন নীতিমালার চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশ ডিওসি আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা হলে দুর্যোগকালে ঝুঁকিতে...

পোলট্রি উন্নয়ন নীতিমালার চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশ ডিওসি আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা হলে দুর্যোগকালে ঝুঁকিতে খামারিরা

একদিন বয়সী মুরগির বাচ্চা (ডিওসি) উৎপাদনে বাংলাদেশ এখনো পুরোপুরি স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। ফলে দেশের মোট চাহিদার প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বাচ্চা আমদানি করতে হয়। এমন বাস্তবতায় জাতীয় পোলট্রি উন্নয়ন নীতিমালা ২০২৬-এর চূড়ান্ত খসড়ায় বাণিজ্যিক পোলট্রি পালনের জন্য একদিন বয়সী বাচ্চা আমদানি নিষিদ্ধের প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খামারিরা।

সম্প্রতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রকাশিত খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক পোলট্রি পালনের জন্য একদিন বয়সী বাচ্চা আমদানি করা যাবে না। তবে সংকট দেখা দিলে ক্ষেত্রবিশেষে প্যারেন্ট স্টক আমদানির সুযোগ থাকবে। এই বিধানকে বাস্তবতা-বিবর্জিত দাবি করে খামারিরা বলছেন, আমদানির পথ পুরোপুরি বন্ধ করলে দুর্যোগকালে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়ে বাজারে অস্থিতিশীলতা দেখা দিতে পারে।

বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোশারফ হোসাইন বলেন, দেশে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ওপর বাচ্চা উৎপাদন নির্ভরশীল। কোনো প্রতিষ্ঠানে বার্ড ফ্লু বা বড় ধরনের রোগ সংক্রমণে উৎপাদন বন্ধ হলে তাৎক্ষণিকভাবে সংকট মোকাবেলার সক্ষমতা নেই। এতে ব্রয়লার ও লেয়ার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

সিলেটের অয়েস্টার পোলট্রি অ্যান্ড ফিশারিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইমরান হোসাইন বলেন, বাচ্চার দাম নিয়ন্ত্রণ ও উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আমদানির সুযোগ রাখা জরুরি। সংকট দেখা দেওয়ার পর আমদানির সিদ্ধান্ত নিলে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে তা কার্যকর হয় না।

খামারিদের আশঙ্কা, বাচ্চার সংকট তৈরি হলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে, যার প্রভাব পড়বে মাংস ও ডিমের বাজারে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন প্রান্তিক খামারিরা।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে ৩৩ কোটি ৬০ লাখ মুরগি এবং ২ হাজার ৪৪১ কোটি ডিম উৎপাদন হয়েছে। বিভিন্ন সূত্র বলছে, পোলট্রি খাতে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত প্রায় এক কোটি মানুষ, যাদের বড় অংশ নারী। ফলে খাতটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে পুষ্টি নিরাপত্তার পাশাপাশি নারীর আয়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমদানি পুরোপুরি উন্মুক্ত না রেখে সীমিত পরিসরে ঘাটতি পূরণের সুযোগ রাখা যেতে পারে। এতে দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে, আবার সংকটও মোকাবিলা করা যাবে।

এ বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের বলেন, খামারিদের আপত্তির বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি।

RELATED ARTICLES