কাম্বোডিয়ায় অনলাইন প্রতারণা দমনে নতুন করে অভিযান জোরদারের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর গত পাঁচ দিনে দেশটির সাইবার প্রতারণা নেটওয়ার্ক থেকে বের হয়ে এসেছেন ১ হাজার ৪০০-এর বেশি ইন্দোনেশিয়ান নাগরিক। বুধবার জাকার্তা এ তথ্য জানিয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে পরিচালিত প্রতারণা চক্রগুলো জাল প্রেমের সম্পর্ক ও ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিয়োগের নামে বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ফাঁদে ফেলে প্রতিবছর শত শত কোটি ডলার হাতিয়ে নিচ্ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে অনলাইন প্রতারণা শিল্পের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেওয়ার পর চলতি মাসে কাম্বোডিয়ার বিভিন্ন সন্দেহভাজন প্রতারণা কমপাউন্ড ছেড়ে বেরিয়ে আসতে শুরু করেন বিদেশি নাগরিকরা। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, শুধু কাম্বোডিয়াতেই এই শিল্পে অন্তত এক লাখ মানুষ কাজ করছে।
নম পেন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ইন্দোনেশিয়ার দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ১৬ থেকে ২০ জানুয়ারির মধ্যে অনলাইন প্রতারণা সিন্ডিকেট পরিচালিত বিভিন্ন স্থান ত্যাগ করে ১ হাজার ৪৪০ জন ইন্দোনেশিয়ান সাহায্যের জন্য নম পেনে দূতাবাসে পৌঁছেছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার ছিল সবচেয়ে বেশি আগমনের দিন—সেদিন একাই ৫২০ জন ইন্দোনেশিয়ান দূতাবাসে উপস্থিত হন। দূতাবাস ধারণা করছে, কাম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানের ফলে আরও অনেক নাগরিক সামনে আসতে পারেন।
দূতাবাস জানায়, এসব নাগরিকের বড় সমস্যা হলো—তাদের অনেকের কাছে পাসপোর্ট নেই এবং তারা বৈধ অভিবাসন অনুমতি ছাড়াই কাম্বোডিয়ায় অবস্থান করছেন।
এ কারণে প্রতারণা সাইট ত্যাগ করা ইন্দোনেশিয়ানদের দূতাবাসে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে প্রয়োজনীয় ভ্রমণ কাগজপত্র, ওভারস্টে জরিমানা মওকুফ এবং দেশে ফেরার প্রক্রিয়ায় সহায়তা দেওয়া যায়।
ইন্দোনেশিয়া জানায়, গত বছর কাম্বোডিয়ায় অবস্থিত তাদের দূতাবাস ৫ হাজারের বেশি কনস্যুলার সেবা দিয়েছে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশেরও বেশি ছিল এমন ইন্দোনেশিয়ান নাগরিক, যারা অনলাইন প্রতারণা সিন্ডিকেটে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
এরই মধ্যে কাম্বোডিয়া চীনা বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী চেন ঝিকে গ্রেপ্তার করে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। তার বিরুদ্ধে কাম্বোডিয়া থেকে অনলাইন প্রতারণা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ গত অক্টোবরে কাম্বোডিয়ার নেতাদের সাবেক উপদেষ্টা চেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে।
বিশ্লেষকদের মতে, চেনের প্রত্যর্পণ প্রতারণা চক্রগুলোর মধ্যে আইনি পরিণতির আশঙ্কা তৈরি করেছে। বছরের পর বছর বিস্তার লাভ করা এই অপরাধমূলক ব্যবসার মুখে এখন কিছু অপারেটর লোকজনকে মুক্তি দেওয়া বা কমপাউন্ড ত্যাগের সুযোগ করে দিচ্ছে।

