ঢাকা  মঙ্গলবার, ১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Homeউন্নয়নপরিবারের সার্বিক সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিকে সরকারের অন্যতম...

পরিবারের সার্বিক সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছেন, পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বর্তমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকারের একটি অগ্রাধিকার কর্মসূচি।

রোববার ঢাকার বনানী কড়াইল বস্তি ও সাততলা বস্তি পরিদর্শন উপলক্ষে টিএনটি বালক বিদ্যালয়ে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, নারীর ক্ষমতায়ন, নারীর অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা, পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা উন্নয়নের লক্ষ্যে এ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। নির্বাচিত পরিবারগুলোকে নিয়মিত নগদ সহায়তা দেওয়া হবে এবং কার্ডটি পরিবারের ‘মা’ বা নারী প্রধান সদস্যের নামে ইস্যু করা হবে।

তিনি বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫(ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার বাস্তবায়নে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদপ্তর ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন ২০২৬ প্রণয়ন করেছে। কর্মসূচির মূল দর্শন—‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’।

বর্তমানে চালু থাকা ৯৫টিরও বেশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মধ্যে সমন্বয়হীনতা, একই ব্যক্তির একাধিক সুবিধা গ্রহণ এবং প্রকৃত দরিদ্রদের বাদ পড়ার মতো সমস্যা দূর করে বৈষম্যহীন কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’কে প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি সর্বজনীন ‘সোশ্যাল আইডি কার্ড’-এ রূপান্তরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। সুবিধাভোগী নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হিসেবে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ (PMT) স্কোরিং ব্যবহার করা হবে। পাইলট পর্যায়ে ০–১০০০ স্কোরের মধ্যে ১ম, ২য় ও ৩য় কোয়ান্টাইলভুক্ত অতি দরিদ্র, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে তালিকাভুক্ত হবে।

যোগ্যতা নির্ধারণে গ্রামীণ এলাকায় বসতভিটাসহ আবাদি জমি ০.৫০ একর বা তার কম এবং পরিবারের মাসিক আয় ও সম্পদ বিবেচনায় নেওয়া হবে। নির্বাচিত প্রতিটি পরিবারকে মাসিক ২,৫০০ টাকা করে সরাসরি নগদ সহায়তা দেওয়া হবে, যা ‘জিটুপি’ পদ্ধতিতে উপকারভোগী নারীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। বিদ্যমান টিসিবি কার্ডকে ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ (ডিএসআর)-এ অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে অন্যান্য মন্ত্রণালয় একই স্মার্ট কার্ড ব্যবহার করে ওটিপি ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা, শিক্ষা উপবৃত্তি ও কৃষি ভর্তুকি প্রদানের সুযোগ পাবে। ২০২৮ সালের মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা বাজেট জিডিপির ৩ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কর্মসূচি বাস্তবায়নে মন্ত্রিপরিষদ কমিটি থেকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নেতৃত্বে কারিগরি ও ডাটা ম্যানেজমেন্ট কমিটি তদারকি করবে। উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে পৃথক বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।

পাইলট পর্যায়ে দেশের ১৪টি বৈচিত্র্যময় এলাকা নির্বাচন করা হয়েছে, যার মধ্যে ঢাকার বনানী কড়াইল বস্তি, মিরপুরের অলিমিয়ারটেক ও বাগানবাড়ী বস্তি, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা, বান্দরবানের লামা, সুনামগঞ্জের দিরাই ও ঠাকুরগাঁও সদরসহ বিভিন্ন অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত।

পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী কড়াইল ও সাততলা বস্তির বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।

RELATED ARTICLES