ঢাকা  শনিবার, ১লা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ১৪ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Homeউন্নয়নসুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার না করতে অনুরোধ বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর

সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার না করতে অনুরোধ বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর

দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎস তৈরি পোশাক শিল্পের স্বার্থ রক্ষায় সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের উদ্যোগ থেকে সরে আসতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ)।

সংগঠন দুটির নেতারা বলেন, আশির দশক থেকে তৈরি পোশাক খাতের টেকসই ও দ্রুত বিকাশের পেছনে বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানিই ছিল প্রধান চালিকাশক্তি। তবে নিট পোশাক শিল্পের বাস্তবতা ও বাজার অর্থনীতির স্বাভাবিক নিয়ম উপেক্ষা করে ১০ থেকে ৩০ কাউন্ট সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা বাতিলের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা রপ্তানি খাতকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

আজ রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ যৌথভাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান সংগঠনগুলোর নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বিজিএমইএ’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান বলেন, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বৈশ্বিক বাজারে তৈরি পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে সরকার দ্রুত সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে বলে তারা আশা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮২ শতাংশই আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এর মধ্যে নিট পোশাক খাতের একক অবদান প্রায় ৫৫ শতাংশ, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, শিল্প প্রবৃদ্ধি এবং লাখো মানুষের কর্মসংস্থান এই খাতের ওপর নির্ভরশীল।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নিট পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৯.৭২ শতাংশ। একই সময়ে স্বাভাবিকভাবেই সুতা আমদানির পরিমাণ ওজনে প্রায় ৯৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। নেতারা বলেন, রপ্তানি বাড়লে কাঁচামাল আমদানিও বাড়বে—এটাই বাজার অর্থনীতির স্বাভাবিক নিয়ম। যেখানে মানসম্মত কাঁচামাল কম দামে পাওয়া যায়, ক্রেতারা সেদিকেই ঝুঁকবেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে যেখানে ‘৩০ কার্ডেড’ সুতার দাম কেজিপ্রতি ২.৫০ থেকে ২.৬০ মার্কিন ডলার, সেখানে দেশীয় মিলগুলো একই সুতা প্রায় ৩ ডলারে বিক্রির প্রস্তাব দিচ্ছে। কেজিপ্রতি প্রায় ৪০ সেন্টের এই মূল্য ব্যবধান আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, স্পিনিং ও পোশাক—উভয় খাতকে সমন্বিতভাবে টিকিয়ে রাখার নীতি গ্রহণ করাই দেশের অর্থনীতি ও কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের স্বার্থে সবচেয়ে কার্যকর ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।

RELATED ARTICLES