চলতি বছরের শুরুতে মেজর জেনারেল হাসান রাশাদের নেতৃত্বে মিসরের জেনারেল ইন্টেলিজেন্স ডাইরেক্টরেট (জিআইডি) আফ্রিকায় বিস্তৃত নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক অভিযান চালায়। এতে চীনের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় অংশগ্রহণ করে। লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কার্যক্রম সীমিত করা এবং আফ্রিকায় চীনের ও মিসরের স্বার্থ রক্ষা করা।
মিসর ও চীনের যৌথ অভিযান মূলত তিনটি ক্ষেত্রে কেন্দ্রিত:
-
সুদান ও লিবিয়া: মোসাদের অনুপ্রবেশ ও বিদ্রোহী বাহিনীর সঙ্গে ইসরায়েলি সমর্থন শনাক্ত করা এবং স্থানীয় পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ করা।
-
হর্ন অব আফ্রিকা ও নীলনদ অববাহিকা: সোমালিল্যান্ড, উগান্ডা ও সোমালিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলিতে ইসরায়েলের প্রভাব সীমিত করা এবং চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্প রক্ষা করা।
-
প্রযুক্তি ও সামরিক অংশীদারিত্ব: মিসরকে উন্নত রাডার, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা ও কৌশলগত নজরদারি সক্ষমতা প্রদান, যৌথ সামরিক মহড়া এবং স্থানীয় প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলা।
মিসর-চীনের যৌথ কৌশল মোসাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, আকাশ ও জলপথ নিরাপত্তা, এবং আফ্রিকায় চীনের প্রভাব সুদৃঢ় করার উপর কেন্দ্রিত। বিশেষভাবে সুয়েজ খাল, বাব এল-মান্দেব ও এডেন উপসাগরকে সুরক্ষিত রাখার মাধ্যমে কৌশলগত অবস্থান জোরদার করা হয়েছে।
ইসরায়েলি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিসর চীনের সঙ্গে সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে আফ্রিকায় মোসাদের প্রভাব কমাতে এবং নিজস্ব আঞ্চলিক অবস্থান শক্ত করতে চেষ্টা করছে। ২০২৬ সালে আফ্রিকান ইউনিয়নে ‘চীন-আফ্রিকা জনগণ-থেকে-জনগণ বিনিময় বর্ষ’ ঘোষণা করে এই কৌশল আরও দৃঢ় করা হয়েছে।

