ঢাকা  শনিবার, ১লা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ১৪ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Homeজাতীয়মহান ভাষা শহীদদের প্রতি জাতির গভীর শ্রদ্ধা

মহান ভাষা শহীদদের প্রতি জাতির গভীর শ্রদ্ধা

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদদের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করেছে জাতি।

২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে মহান ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। এরপর রাত ১২টা ৭ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানান।

এরপর মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর নেতৃবৃন্দ, তিন বাহিনীর প্রধান, বিদেশি কূটনীতিক, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং জিয়া পরিবারের সদস্যরা শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর আমির ড. শফিকুর রহমান এবং ১১ দলীয় জোটের নেতারা, পাশাপাশি বিরোধীদলীয় নেতারাও শহীদদের চিরশান্তি কামনা করে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের অনুষ্ঠানে জামায়াতের এটি ছিল প্রথম আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ।

রাত ১২টা ৪০ মিনিটে সাধারণ মানুষের জন্য শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নানা সংগঠন পর্যায়ক্রমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। খালি পায়ে প্রভাতফেরিতে অংশ নেওয়া অসংখ্য মানুষকে জাতীয় পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে শহীদ মিনারের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। প্রাঙ্গণে ধ্বনিত হয় কালজয়ী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে জনস্রোত।

মধ্যরাতের আগেই হাজারো মানুষ খালি পায়ে, বুকে কালো ব্যাজ ধারণ করে ফুল হাতে শহীদ মিনার এলাকায় জড়ো হন। তারা একসঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে ভাষা আন্দোলনের স্মরণগীতি গেয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বিদেশি নাগরিকদেরও শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে দেখা যায়।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী প্রদান করেন। দিনটি ছিল সরকারি ছুটির দিন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রভাতফেরি, পুষ্পস্তবক অর্পণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার দাবিতে রাজপথে নামা মানুষের ওপর ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। গুলিতে শহীদ হন রফিক, সালাম, বরকত, জব্বারসহ অনেকে। তাঁদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলা পায় রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা। ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘ এ দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা, স্কুল-কলেজ ও পাড়া-মহল্লায় অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করে ভাষা শহীদদের স্মরণ করা হয়। শিশু-কিশোরদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল লক্ষণীয়। আজিমপুর কবরস্থানসহ বিভিন্ন স্থানেও পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এবং বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করে। সংবাদপত্রগুলোও দিবসটি উপলক্ষে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে।

RELATED ARTICLES