ঢাকা  শুক্রবার, ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Homeআবাসনবিএইচবিএফসির আইন সংশোধনের উদ্যোগ: লক্ষ্য ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ এবং আন্তর্জাতিক মানে আর্থিক বিবরণী...

বিএইচবিএফসির আইন সংশোধনের উদ্যোগ: লক্ষ্য ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ এবং আন্তর্জাতিক মানে আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত করা

এস এম ইদ্রিস: সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমে সফলভাবে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন। কর্পোরেশনকে আধুনিক ধারার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও যুগোপযোগী করতে বিদ্যমান বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন অর্ডার ৭/১৯৭৩ এর কতিপয় অনুচ্ছেদ সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশনের পর্ষদের পরামর্শক্রমে এমডি মোঃ আব্দুল মান্নান। এ ব্যাপারে একটি প্রস্তাবনা অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে সম্প্রতি প্রেরণ করা হয়েছে বলে কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে। এ ব্যাপারে দৈনিক উন্নয়ন বার্তাকে এমডি মোঃ আব্দুল মান্নান বলেন, আমাদের লক্ষ্য এই আইন সংশোধনীর মাধ্যমে ক্ষমতা বিকেন্দ্রিকরণ এবং আন্তর্জাতিক মানের আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত করা।

মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তের বাড়ি নির্মাণ ও পুরাতন ফ্লাট ক্রয়ের ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে আস্থার প্রতিষ্ঠান। সর্বোচ্চ ১০ ও সর্বনিম্ন ৮ শতাংশ হারে সরল সুদে ঋণ দিয়ে থাকে। নির্ধারিত সুদের হার ২০ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত বহাল থাকে। অপরদিকে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের পুরাতন ফ্লাট কিনতেও ঋণ দিচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানটি।

এটি সরকারের একটি বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠান। দেশের গৃহায়ন সমস্যা সমাধানে জনসাধারণকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের উদ্দেশ্যে ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠা পায় হাউজ বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন। এরপর ১৯৭৩ সালে জারিকৃত রাষ্ট্রপতির ৭ নং আদেশ বলে বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন পুনঃ গঠিত হয় গঠিত হয়। প্রায় ৭৩ বছর ধরে দেশের আবাসন সমস্যা সমাধানে অর্থাৎ গৃহনির্মাণে গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন। শহরের স্বল্প আয়ের মানুষের আবাসন বিনির্মাণে উল্লেখযোগ্য কাজ করছে এই প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশনের ঋণ ও বিনিয়োগ গ্রাহকের নিকটে অর্থাৎ মার্কেটে প্রচুর চাহিদা রয়েছে। কিছুদিন অর্থের যোগানের ঘাটতির কারণে অনেক চাহিদা মেটানো সম্ভব হয়নি এছাড়াও বিভিন্ন টেকনিক্যাল কারণে ঋণ বিতরণের গতি শস্নথ হয়েছিল। পরবর্তীতে কিছু তহবিল প্রাপ্তির পর কিছুটা অগ্রগতির দিকে চলতে থাকে এই প্রতিষ্ঠানটি।

তবে বর্তমান এমডি মোঃ আব্দুল মান্নান যোগদানের পর থেকেই পর্ষদের পরামর্শ ক্রমে তার দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার দ্বারা বিএইচবিএসসি এর গতিশীলতা ফিরিয়ে আনেন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি সফলতার ধারা অব্যাহত রয়েছে।

মোঃ আব্দুল মান্নান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফাইন্যান্সে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতক উত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। তিনি ১৯৯৩ সালে জনতা ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার হিসেবে চাকুরী জীবন শুরু করেন। বিভিন্ন ধাপে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালনপূর্বক তিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কর্মসংস্থান ব্যাংকে যোগদান করেন।এরপর বাংলাদেশ রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক এর দায়িত্ব সফলতার সাথে পালনের পর তিনি বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশনে এমডি হিসেবে যোগদান করেন।

এমডি মোঃ আব্দুল মান্নানের মতামত:

এমডি মোঃ আব্দুল মান্নান

দৈনিক উন্নয়ন বার্তার পক্ষ থেকে নির্বাহী সম্পাদক এস এম ইদ্রিস এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি সম্বন্ধে জানতে চাইলে তিনি বিভিন্ন তথ্য প্রদান করেন। বিদ্যমান আইন সংশোধন সম্বন্ধে তিনি বলেন, দেশের বিদ্যমান অন্যান্য আইন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন নির্দেশনার সাথে বিএইচবিএফসির আইনের বেশ কিছু ধারা অসামঞ্জস্য থাকায় তার সংশোধনের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদ পূর্ণ সমর্থন সহ বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন।
কর্পোরেশনের বিদ্যমান আইনের অনুচ্ছেদ ৬ এর উপ- অনুচ্ছেদ ৩ এ ঋণ মঞ্জুরি এবং উপ- অনুচ্ছেদ ৪ এ ঋণ বাতিল করার একক ক্ষমতা ব্যবস্থাপনা পরিচালকের উপর ন্যাস্ত রয়েছে। ফলে ঋণের সর্বনিম্ন হতে সর্বোচ্চ সিলিং পর্যন্ত ঋণ মঞ্জুরি নথি ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নিকট অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করা হয়ে থাকে। যার ফলে ঋণ বিতরণের কার্যক্রমে দীর্ঘ সময় ব্যয় হয় এছাড়া ঋণের চাহিদা এবং ঋণ প্রদানের সক্ষমতা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় ঋণ সহজীকরন এর নিমিত্তে ঋণ মঞ্জুরীর ক্ষমতা বিভাজন ও বিকেন্দ্রীকরণ করা প্রয়োজন। তৎপ্রেক্ষিতে ঋণ মঞ্জুরি ও বাতিলের ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের জন্য ব্যবস্থাপনা পরিচালক পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনক্রমে ঋণ মঞ্জুরী ও বাতিলের ক্ষমতা কর্পোরেশনের যেকোনো কর্মকর্তাকে প্রদান করতে পারে এরূপ বিধান রেখে আলোচ্য সংশোধনীর প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিদ্যমান ১২ অনুচ্ছেদে আছে বোর্ডের কাজে সহায়তা করার জন্য বোর্ড কর্তৃক শুধুমাত্র স্ট্যান্ডিং কমিটি নিয়োগ এর বিধান বর্ণিত আছে। কিন্তু বাস্তবিক ক্ষেত্রে স্ট্যান্ডিং কমিটি ব্যতীত অন্যান্য কমিটি নিয়োগের প্রয়োজন হয় যেমন:- শরীয়াহ সুপারভাইজরি কমিটি, অডিট কমিটি, অন্যান্য কমিটি ইত্যাদি। তৎপ্রেক্ষিতে বিদ্যমান অনুচ্ছেদ সংশোধনপূর্বক আলোচ্য সংশোধনীর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে কাজের গতি বাড়বে অনেক সদস্য কাজ করার সুযোগ পাবেন।

বিদ্যমান অনুচ্ছেদ ২৯ এ বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন সময়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের ঋণ ও বিনিয়োগের প্রভিশনের হার নির্ধারণ করে। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের ঋণ ও বিনিয়োগের হার যথাক্রমে নিম্নরূপ :- শ্রেণীকৃত ঋণের সন্দেহজনক এর জন্য প্রভিশনিং ৫০ শতাংশ আর শ্রেনীকৃত মন্দ ও ক্ষতি ঋণের জন্য ১০০ শতাংশ । অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের গাইড লাইন অনুযায়ী উপরোক্ত হারে বিএইচবিএফসি প্রভিশন সংরক্ষণ করে। কিন্তু বিদ্যমান আইনে কর্পোরেশনের প্রভিশন শুধুমাত্র মন্দ এবং সন্দেহজনক ঋণের জন্য সংরক্ষণ করার বিধান রয়েছে।এছাড়া বিদ্যমান আইনে বোর্ড কর্তৃক লভ্যাংশ বা ডিভিডেন্ট ঘোষণার বিষয়টিও উল্লেখ নেই। এছাড়াও IFRS IAS অনুযায়ী retained earnings /changes of equity উল্লেখ নেই। ফলে বর্তমানে বিএইচবিএফসির আর্থিক বিবরণী IFRS এবং IAS অনুযায়ী যথাযথ হয়নি মর্মে অডিট ফার্ম কর্তৃক আপত্তি উত্থাপিত হয়েছে। ফলে উপরোক্ত সমস্যা গুলো সমাধানকল্পে আলোচ্য সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছে। যাতে আমাদের একাউন্স সিস্টেম আন্তর্জাতিক মানের হয়।
বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশনের ঋণ বিতরণ সম্বন্ধে তিনি বলেন, ঢাকা এবং চট্টগ্রামের সুদের হার ১০ শতাংশ আর অন্যান্য এলাকায় সুদের হার ৮ থেকে ৯ শতাংশ। সুদ আদায় করা হয় সাধারণ সরল সুদ হিসাবে। ঋণের প্রস্তাব পাওয়ার পর সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যেই ঋণ বিতরণ করা হয়। আমরা ঋণ বিতরণের কার্যক্রম ট্রেকিং করে থাকি। ঋণ প্রস্তাব জমা হওয়ার সাথে সাথেই ঋণের নাম্বার ফাইলে পড়ে এবং গ্রাহকের মোবাইল নাম্বারও সংরক্ষণ করা হয়। কোন অফিস একটা ফাইল কতদিন রাখতে পারবে তার একটা সময় দেয়া আছে। নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলে ট্রেকিংয়ের রং গ্রীন থেকে লাল হয়ে যায় তখন গ্রহিতা সহ সকলেই বুঝতে পারে ফাইলটা কোথায় আটকে আছে। তিনি বলেন আর কোন প্রতিষ্ঠানে লোন ট্রেকিং করে বলে আমার জানা নেই। কাজেই এখানে কেউই কোন ধরনের অনিয়ম করার কোন সুযোগ কোন ভাবেই পায়না । অর্থাৎ ফাইল কারো হাতে আটকে রাখার সুযোগ নেই। ঋণ প্রদানের সময়ই সঠিক ভাবে গ্রাহক নির্বাচন করা হয়, যার ফলে খেলাপির হার কম থাকছে। টাকা যাতে অন্য খাতে না যায় তাই তিন চার কিস্তিতে ধাপে ধাপে কাজের অগ্রগতির সাথে সাথে টাকা বিতরণ করা হয়। ফলে কাজ শেষ হয় টাকা প্রদানও শেষ হয়। আমাদের খেলাপির হার চারের নিচে সব সময় বিদ্যমান আছে। বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশনের ৭২ বছরে কোন রাইট অফ ও সুদ মওকুফ নেই। আমাদের যখন চাহিদার তুলনায় অর্থের যোগান কম হয় তখন আমরা বিকল্প পথ গুলোর দিকে অগ্রসর হই এ ব্যাপারে আমরা ইসলামী ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক আইএসডিবি, বিশ্ব ব্যাংক, এডিবি ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করি। আইএসডিবি আমাদের প্রকল্প মূল্যায়ন করে ৯২৮ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। প্রায় পাঁচ বছর আগে। এটা আমরা গ্রামে ও পেরি আরবান এলাকায় বিতরণ করি। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে ৫২ দেশের মধ্যে আইএসডিবি তার মূল্যায়নের রেটিংয়ে আমাদেরকে সর্বোচ্চ নাম্বার প্রদান করে এবং আমরা সবচেয়ে ভালো করি। তারই ধারাবাহিকতায় আইএসডিবি গত বছরের শেষে আমাদেরকে ২৭০.৫৭ মিলিয়ন ইউরো অর্থাৎ ৩৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। ইতিমধ্যে ইসলামী শরীয়া ভিত্তিক এই আর্থিক সহায়তা গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণ শুরু হয়েছে। শরীয়া ভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আমরা সফটওয়্যার সহ বিভিন্ন কর্মকান্ড সম্পন্ন করে একটি শরীয়াহ বোর্ড গঠন করেছি। আমি মনে করি এই অর্থ দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে। এর আগে আমরা ঋণ বিতরণের জন্য ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকা মঞ্জুর করতাম ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আমরা প্রায় ১৩০০ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছি। এটা বিরাট অগ্রগতি। আমাদের “স্বপ্ননীড়” নামে একটি প্রকল্প আছে। নিম্ন আয় ভূক্ত মানুষের মাঝে বিশেষ করে এমপিও ভুক্ত শিক্ষক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বেলায় এই ঋণের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়া হয়। এখানে ২৭ লাখ টাকা আমরা দেই আর ০৩ লাখ টাকা গ্রহিতাকে দিতে হয়। গ্রুপ ভিত্তিক ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থাও আছে। আমরা গ্রুপ ভিত্তিক ঋণ কে উৎসাহিত করছি কারণ এতে করে জমিয় সাশ্রয় হয় আর পরিবেশ রক্ষায়ও সহায়ক হয়। বাড়ির সঠিক কাগজপত্র এবং সরকার কর্তৃক অনুমোদিত প্লান থাকলেই চলবে এই ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে। সব জেলাতেই হাউজ বিল্ডিং এর শাখা রয়েছে। মোট ৭৩ টি শাখা আছে। এই ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ২৫ বছর। আর একটা সুখবর হচ্ছে আমরা গত এক বছর আগে সিদ্ধাত্ম নিয়েছি যে সর্বোচ্চ ১৫ বছর আগের অনুমোদিত প্লানের ফ্লাট গ্রাহককে ক্রয়ের জন্য ঋণ বিতরণ করব। এসব ক্ষেত্রে নকশা সঠিকভাবে পর্যালোচনা করে এবং ভাড়া প্রাপ্তির বিষয়টা নিশ্চিত হয়ে ঋণ বিতরণ করা হবে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশনের ৫০০০ কোটি টাকার মতো ব্যালেন্স বাজারে রয়েছে। জনগণ যার সুফল পাচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা পরিপালনের লক্ষ্যে সীমিত তহবিলের সুদক্ষ ব্যবস্থাপনা ও সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে বিএইচবিএফসি তার ব্যবসায়িক কর্মপরিধি ক্রমান্বয়ে সম্প্রসারণ করে চলছে। গ্রাহক পর্যায়ে সুদহার সহনীয় যে রেখে বিএইচবিএফসি স্বল্প ও সরল সুদে দীর্ঘ মেয়াদে গৃহ নির্মাণ ঋণ বিতরণ করে আসছে। বর্তমানে এলাকাভেদে বিএইচবিএফসি ঋণের সুদ হার সর্বনিম্ন ৮% হতে সর্বোচ্চ ১০% এবং মেয়াদ ২০ হতে ২৫ বছর। দেশের সকল অঞ্চলে ৭৩ টি শাখা এবং ১৮ টি জোনাল অফিসের মাধ্যমে গৃহ নির্মাণ ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে।

বিএইচবিএফসির বিগত ৩ অর্থবছরে ঋণ মঞ্জুরী, বিতরণ, আদায়, শ্রেণীকৃত ঋণের হার এবং ব্যালেন্স এর তথ্যাদি নিম্নরূপ :

২০২২-২৩ অর্থবছরে ঋণ মজুরী ৮৪৬ কোটি টাকা।

ঋণ বিতরণ ৬৯৬ কোটি টাকা। ঋণ আদায় ৭১৬ কোটি টাকা। শ্রেণীকৃত ঋণের হার ৩.৮ শতাংশ।
ঋণের ব্যালেন্স-৩৯২৭ কোটি টাকা।

২০২৩-২৪ অর্থ বছরে ঋণ মঞ্জুরী ১২৮৯ কোটি টাকা। ঋণ বিতরণ ৯১৬ কোটি টাকা। ঋণ আদায় ৬৮৫ কোটি টাকা। শ্রেণীকৃত ঋণের হার ৩.৯ শতাংশ। ঋণের ব্যালেন্স- ৪৮১৩ কোটি টাকা।
২০২৪-২৫ (মার্চ পর্যন্ত) ঋণ মঞ্জুরি ৬১৯ কোটি টাকা। ঋণ বিতরণ ৪৮৫ কোটি টাকা। ঋণ আদায় ৫২৮ কোটি টাকা। শ্রেনিকৃত ঋণের হার ৩.৯ শতাংশ। ঋণের ব্যালেন্স- ৫০১৭ কোটি টাকা।

অন্যান্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বিএইচবিএফসি’র উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:

ক. বিএইচবিএফসি শুরু হতে ২০২১ সাল পর্যন্ত সরকার কর্তৃক পরিশোধিত মূলধনের উপর ২% হারে সুদ প্রদান করেছে এবং সর্বশেষ ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের ডিভিডেন্ড হিসেবে সরকারকে ৮৩.০০ (তিরাশি) কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে।

খ. ১৯৫২ সাল হতে এ পর্যন্ত কোনো ঋণ অবলোপন (Write off) করা হয়নি।

গ. শুরু হতে এ পর্যন্ত কোনো সুদ মওকুফ করা হয়নি।

ঘ. শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণ ২৫% হতে হ্রাস পেয়ে বর্তমানে ৪% হয়েছে।

ঙ. কর্পোরেশনের কোনো প্রভিশন ও মূলধন ঘাটতি নেই।

চ. বিতরণকৃত ঋণের ৭৬% জেলা, উপজেলা ও গ্রামীণ গ্রোথ সেন্টারে এবং ২৪% ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় প্রদান করা হচ্ছে।

ছ. বিএইচবিএফসি শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত নকশা মোতাবেক পরিকল্পিত আবাসন বিনির্মাণে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে।

জ. বিএইচবিএফসি প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি শরিয়াভিত্তিক বিনিয়োগ করে।

অন্যান্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তুলনায় অনেক কম হারে অর্থাৎ (বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় ১০%, দেশের অন্যান্য এলাকায় ৯% এবং কৃষক আবাসন ৮%) হারে সুদে ঋণ/বিনিয়োগ করে বিধায় কর্পোরেশনের ঋণ/বিনিয়োগের চাহিদা ব্যাপক।

RELATED ARTICLES