উন্নয়ন বার্তা প্রতিবেদন: নির্বাচনের মাধ্যমে ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় সংসদ গঠনের লক্ষ্যে অবিলম্বে রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি আবারও জানিয়েছে বিএনপি। নির্বাচনের সুস্পষ্ট ঘোষণা দেওয়া না হলে সরকারের প্রতি সহযোগিতা অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে বলে সতর্ক করেছে দলটি। ২৭ মে মঙ্গলবার গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এতে বলা হয়, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকের পর উপদেষ্টা পরিষদের বিবৃতিতে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা অস্পষ্ট ও বিভ্রান্তিকর। মূলত সরকার পরিচালনায় নিরপেক্ষতার ঘাটতি ও দুর্বলতা থাকায় জনমনে সংশয় দেখা দিয়েছে। সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। তাই সংস্কার ও নির্বাচনের প্রক্রিয়া একই সঙ্গে চলতে পারে। একই সঙ্গে পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তির ও ব্যক্তির অর্থাৎ দল ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচার প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। সরকার পরিচালনায় নিরপেক্ষতার ঘাটতি ও দুর্বলতার কারণে জনমনে সংশয় ও সন্দেহের উদ্রেক হওয়া স্বাভাবিক। বিভিন্ন মহলের অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবিদাওয়া এবং এখতিয়ারবহির্ভূত বক্তব্যে সরকারের স্বাভাবিক কাজের পরিবেশ বিনষ্ট হওয়ার যে অভিযোগ সরকারের পক্ষ থেকে উত্থাপন করা হয়েছে, সেটা মূলত সরকারের নিজস্ব অর্জন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিলম্বিত করার জন্য কিছু দৃশ্যপট তৈরি করা হচ্ছে। একটা উছিলা হলো বিচার শেষ করতে হবে। বিচার তো আমরাও চাই। আওয়ামী লীগ আমাদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্য এমন কিছু নেই, যা করেনি। এর পরও কেন প্রশ্ন আসে, আমরা তাদের বিচার চাইব না?’
স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের বিচার হতে হবে বলে উল্লেখ করেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘স্বাধীন বিচার চাইব, আবার নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বিচার শেষ করার কথা বলব— দুটি তো সাংঘর্ষিক। সে জন্য আমরা বলছি, সংস্কার, নির্বাচন এবং বিচারের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ আলাদা। তিনটি কাজই একসঙ্গে চলতে পারে এবং চলা উচিত।’
খন্দকার মোশাররফ বলেন, উপদেষ্টা পরিষদের বিবৃতিতে পরাজিত শক্তির ইন্ধনে এবং বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সরকারের ওপর দায়িত্ব পালনকে অসম্ভব করে তোলা হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আমরা মনে করি, যত দ্রুত সম্ভব সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমেই পরাজিত শক্তির ইন্ধন এবং বিদেশি যড়যন্ত্র বন্ধ করা সম্ভব। দেশকে স্থিতিশীল রাখতে, চিরতরে স্বৈরাচারের আগমন প্রতিহত করতে ফ্যাসিবাদবিরোধী বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। সরকারের নিরপেক্ষ ভূমিকা এবং চরিত্র বজায় রাখার স্বার্থে বিতর্কিত উপদেষ্টাদের অপসারণ চেয়েছেন তারা। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্যই জনগণ রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছে। অথচ সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে জনমনে এ বিষয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।
সরকার বিলম্ব না করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে ইশরাক হোসেনের শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা নেবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন দলের স্থায়ী কমিটির এই সদস্য। তিনি আরও বলেন, বিএনপি এবং অন্যান্য দল কোনো সময়ই প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগ চায়নি এবং এখনও চায় না। তারা অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে ডিসেম্বরের মধ্যে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের রোডম্যাপ দাবি করে আসছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক, সামাজিক এবং শ্রেণি-পেশার শক্তির মধ্যে যেন বিভেদ সৃষ্টি না হয়, যাতে ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করা যায়, সে জন্য সরকারের নিরপেক্ষ ভূমিকা এবং চরিত্র বজায় রাখার স্বার্থে তারা বিতর্কিত উপদেষ্টাদের অপসারণ চেয়েছেন।
তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা এবং জনপ্রত্যাশাকে ধারণ করে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা অতি জরুরি। এই লক্ষ্যে আমরা সরকারকে সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছি। সরকারের স্বকীয়তা, সংস্কার উদ্যোগ, বিচার প্রক্রিয়া, সুষ্ঠু নির্বাচন ও স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করে– এমন কোনো কর্মকাণ্ডকে আমরা সব সময় নিরুৎসাহিত করি এবং প্রতিরোধ করার বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

