চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় আগামী ২৬ জানুয়ারি ঘোষণা করা হবে।
আজ বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই মামলার রায় ঘোষণার নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। এর আগে গত ২৪ ডিসেম্বর রায় ঘোষণার জন্য ২০ জানুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছিল।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখাঁরপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সময় পুলিশ গুলিবর্ষণ করে। এতে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ মাহদী হাসান জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক এবং মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হন। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা দায়ের করা হয়।
গত ১১ আগস্ট চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এরপর প্রথম সাক্ষী হিসেবে শহীদ আনাসের বাবা সাহরিয়ার খান পলাশ সাক্ষ্য দেন। পরবর্তীতে শহীদ আনাসের মা ও নানাসহ মোট ২৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়। মামলায় সাবেক স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও সাক্ষ্য দেন।
এ মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামি হলেন— শাহবাগ থানার সাবেক ওসি (অপারেশন) মো. আরশেদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন এবং মো. নাসিরুল ইসলাম। অন্যদিকে পলাতক রয়েছেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম এবং সাবেক সহকারী কমিশনার (এসি) মোহাম্মদ ইমরুল।
শুনানিকালে আসামি ইমাজ হোসেন ইমনের পক্ষে আইনজীবী মো. জিয়াউর রশিদ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। পলাতক চার আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে শুনানি করেন কুতুবউদ্দিন আহমেদ। প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। এ ছাড়া প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম, সহিদুল ইসলাম ও আবদুল্লাহ আল নোমানসহ অন্যান্য প্রসিকিউটররাও উপস্থিত ছিলেন।

