ঢাকা  রবিবার, ২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Homeউন্নয়নঋণ পুনঃতফসিলে বড় সুবিধা দিচ্ছে সরকার, জাহাজ নির্মাণ শিল্প পাবে ১০ বছর...

ঋণ পুনঃতফসিলে বড় সুবিধা দিচ্ছে সরকার, জাহাজ নির্মাণ শিল্প পাবে ১০ বছর সময়

রপ্তানিনির্ভর ও দেশীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্পের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ঋণ পুনঃতফসিলে উল্লেখযোগ্য ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এই খাতের ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো ২ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ ১০ বছরে ঋণ পরিশোধের সুযোগ পাবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, ইউরোপে চলমান সামরিক অস্থিরতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যাঘাতের কারণে জাহাজ নির্মাণ শিল্পের নগদ প্রবাহে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে শিল্পখাতকে সহায়তা দিতে বিশেষ এই সুবিধা চালু করা হয়েছে। আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত এ সুবিধার আওতায় ঋণ পুনঃতফসিলের আবেদন করা যাবে।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) একটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সার্কুলারে বলা হয়, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যেসব ঋণ খেলাপি হিসেবে শ্রেণিকৃত হয়েছে, সেগুলো পুনঃতফসিল করতে মোট ঋণের ৩ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিতে হবে। এর মধ্যে আবেদনকালে ১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং অবশিষ্ট ১ দশমিক ৫ শতাংশ ছয় মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

এ ছাড়া ২০২৩ সালের সার্কুলারের আওতায় আগে পুনঃতফসিল হওয়া ঋণগুলো নতুন করে পুনর্গঠন করতে চাইলে ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিলেই হবে। সেক্ষেত্রে বিদ্যমান ঋণ মেয়াদের সঙ্গে সর্বোচ্চ আরও দুই বছর যুক্ত করা যাবে।

গ্রেস পিরিয়ডে গ্রাহককে মূল ঋণের ওপর ধার্য সুদ মাসিক অথবা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পরিশোধ করতে হবে। আগের বকেয়া সুদ একটি পৃথক ব্লকড হিসাবে সংরক্ষণ করা হবে, যা গ্রেস পিরিয়ড শেষে সুদবিহীন কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ থাকবে।

মূল ঋণের কিস্তিও মাসিক বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পরিশোধযোগ্য হবে। নির্ধারিত কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ঋণটি পুনরায় খেলাপি হিসেবে শ্রেণিকরণ করা হবে।

সার্কুলারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠিত ঋণ থাকলেও প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ব্যবসা ও রপ্তানি কার্যক্রম চালু রাখতে নতুন ঋণ গ্রহণ করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে কোনো কম্প্রোমাইজ অ্যামাউন্ট প্রদানের বাধ্যবাধকতা থাকবে না।

তবে জালিয়াতি বা প্রতারণার মাধ্যমে সৃষ্ট ঋণ এবং ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের ক্ষেত্রে এই বিশেষ সুবিধা প্রযোজ্য হবে না। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে গ্রাহকরা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদন পাওয়ার পর ব্যাংকগুলোকে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করতে হবে। একই সঙ্গে বিশেষ পরিদর্শনের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে যে প্রতিষ্ঠানটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, আমদানি বিকল্প পণ্য উৎপাদন ও বৈশ্বিক বাজারে রপ্তানির সম্ভাবনার কারণে জাহাজ নির্মাণ শিল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। শিল্পকে সচল রাখা এবং একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোর ঋণ আদায় নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ পুনঃতফসিল সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

RELATED ARTICLES