ঢাকা  শনিবার, ১লা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ১৪ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Homeবিশ্বইরানের সরকারবিরোধী আন্দোলনের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে গণমিছিল

ইরানের সরকারবিরোধী আন্দোলনের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে গণমিছিল

ইরানের সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের প্রতিবাদ জানিয়ে এবং বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে রোববার ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে।

লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ইরানি প্রবাসী সম্প্রদায়ের আবাসস্থল লস অ্যাঞ্জেলেসে কয়েক হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে মিছিল করেন। একই সময়ে নিউইয়র্কেও কয়েক শ মানুষ সমাবেশে অংশ নেন।

বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল—‘নতুন হলোকাস্ট’, ‘চলমান গণহত্যা’ এবং ইরানি সরকারের ‘সন্ত্রাস’ বন্ধের আহ্বান।

লস অ্যাঞ্জেলেসের সমাবেশে অংশ নেওয়া পেরি ফারাজ বলেন, তার হৃদয় ভীষণ ভারাক্রান্ত এবং ক্ষোভে তিনি বাকরুদ্ধ। ৬২ বছর বয়সী এই পে-রোল ম্যানেজার ২০০৬ সালে ইরান ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেন। তিনি জানান, সম্প্রতি জানতে পেরেছেন যে ইরানে চলমান বিক্ষোভে তার এক অপ্রাপ্তবয়স্ক চাচাতো ভাই নিহত হয়েছে। শিশুটির বয়স ছিল ১০ বছরেরও কম। ফারাজ বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত মর্মান্তিক।

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে ইরানে যে বিক্ষোভ শুরু হয়, তা দ্রুত সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি ইরানি শাসকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে।

তবে ৮ জানুয়ারি থেকে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ রেখে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অভিযান শুরু হলে আন্দোলনের গতি অনেকটাই কমে আসে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই অভিযানকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

নরওয়েভভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ জানিয়েছে, তারা নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত ৩ হাজার ৪২৮ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর তথ্য যাচাই করেছে। স্বাস্থ্য খাতের অভ্যন্তরীণ সূত্র, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বাধীন উৎসের তথ্যের ভিত্তিতে এই সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে এই সংখ্যা নিশ্চিত করতে পারেনি এবং ইরানি কর্তৃপক্ষও কোনো আনুষ্ঠানিক হিসাব প্রকাশ করেনি।

লস অ্যাঞ্জেলেসের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৬৫ বছর বয়সী আইনজীবী আলি পারভানেহ বলেন, সাধারণ মানুষের ওপর এই নির্বিচার হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত বেদনাদায়ক। অনেক বিক্ষোভকারী ‘মেক ইরান গ্রেট এগেইন’ লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করেন এবং ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) বিরুদ্ধে মার্কিন হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সমাবেশে কেউ কেউ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিরুদ্ধে কঠোর স্লোগান দেন। গত ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি ক্ষমতায় রয়েছেন।

জুন মাসে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে ভিন্ন ভিন্ন বার্তা দেন। প্রথমে তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা চললে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করবে। পরে জানান, বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে না—এমন ইরানি আশ্বাসে তিনি সন্তুষ্ট।

আলি পারভানেহ বলেন, তিনি আশা করেন ট্রাম্প শুধু কথার সমর্থনে সীমাবদ্ধ থাকবেন না।

লস অ্যাঞ্জেলেসে অনেক বিক্ষোভকারী ট্রাম্পের পাশাপাশি ইরানের সাবেক শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির ছেলে রেজা পাহলভির সমর্থনেও স্লোগান দেন। প্রবাসী ইরানিদের একটি অংশের মধ্যে রেজা পাহলভির জনপ্রিয়তা থাকলেও ইরানের ভেতরে তার রাজনৈতিক প্রভাব সীমিত।

ওয়াশিংটনে নির্বাসনে থাকা সাবেক শাহের ছেলে চলতি সপ্তাহে ইরানে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে অধিকাংশ ইরানি জনগণ তা সমর্থন করেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। ইরানের বিরোধী রাজনীতি এখনো বিভক্ত এবং শাহ আমলের দমন-পীড়নের স্মৃতি অনেকের মনে আজও তাজা।

লস অ্যাঞ্জেলেসের ওয়েস্টউড এলাকা ‘তেহরানজেলেস’ নামেও পরিচিত। সেখানে একটি রেস্তোরাঁর মালিক রুজবেহ ফারাহানিপুর বলেন, প্রবাসীদের উচিত ইরানিদের পাশে দাঁড়ানো, তবে তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার নিজেদের হাতেই থাকা প্রয়োজন।

RELATED ARTICLES