উন্নয়ন বার্তা প্রতিবেদন: বাংলাদেশে বর্তদেমানে ইন্ডাকশন ও ইনফ্রারেড এই দুই ধরনের কুকারের বেশ প্রচলন আছে। প্রচলিত ইন্ডাকশন কুকার সাধারণত চারকোনা আকৃতির ও ওপরে কাচের তৈরি হয়ে থাকে। এতে থাকে একটি ম্যাগনেটিক সেন্সর। এটি বিশেষ ধাতব পাত্রকে চৌম্বকীয় বলের মাধ্যমে আকর্ষণ করে এবং দ্রুত তাপ সঞ্চালন ঘটায়। তবে সব ধরনের পাত্র এতে ব্যবহারযোগ্য নয়, তাই ইন্ডাকশন কুকারের জন্য উপযুক্ত স্টিল বা মার্বেল কোটিং পাত্র ব্যবহার করতে হয়। তবে একটি ভালো দিক হলো ইন্ডাকশন কুকারের ওপরের অংশ বা নিচের অংশ কোনো সাইড থেকেই চুলা গরম হয় না। শুধু চুলায় বসানো পাত্রটি গরম হয়। তাই রান্না করা যায় একেবারে নিরাপদে। ইন্ডাকশন কুকারে বিদ্যুৎ বিলও খুব বেশি আসে না।
ইনফ্রারেড কুকার দেখতে একদম ইন্ডাকশন কুকারের মতো চারকোনা আকৃতির ও ওপরের স্তরটি মোটা গ্লাসের তৈরি। ইনফ্রারেড কুকার বিকিরণ পদ্ধতিতে তাপ ছড়িয়ে দেয়, ফলে চুলার ওপরের অংশের গ্লাসটি গরম হয়ে তাপ ওপরের দিকে তুলে দেয়। ফলে চুলার ওপরে যেকোনো পাত্র বসালে তা খুব সহজেই গরম হয়ে যায়। তবে চুলার ওপরে হাত বা কাপড়ের কোনো প্রান্ত পড়লে সঙ্গে সঙ্গে তা পুড়ে যাবে।
ইনফ্রারেড কুকারে রেগুলার রান্না করলে ইন্ডাকশনের তুলনায় সামান্য বেশি বিল আসতে পারে। তবে এ চুলায় আপনি খুব সহজেই বারবিকিউ থেকে শুরু করে যেকোনো রান্না যেকোনো পাত্রে করতে পারবেন।
দুটো চুলার মধ্যেই কিছু সুবিধা আছে আবার কিছু অসুবিধা আছে। সুবিধা, বাজেট ও অন্যান্য দিক বিবেচনা করে সঠিক চুলাটি বাছাই করে নিতে হবে।
যাদের বাজেট কম এবং জরুরি ভিত্তিতে ইলেকট্রিক চুলা প্রয়োজন তাদের জন্য ইনফ্রারেড কুকার ভালো হবে। কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে চুলা ও কুকারসেট, সব মিলিয়ে ইন্ডাকশন চুলার দাম বেশি পড়ছে। অন্যদিকে ইনফ্রারেড কুকারে সব ধরনের পাত্র ব্যবহার করা যায় বলে আলাদা করে আর কোনো পাত্র কিনতে হচ্ছে না। তাই এক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে খরচ কম লাগছে। আবার আপনার যদি বিদ্যুৎ বিল নিয়ে চিন্তা থাকে তাহলে ইন্ডাকশন কুকার নেয়াটাই ভালো হবে। ইন্ডাকশন কুকারের তুলনায় ইনফ্রারেড কুকারের স্থায়িত্ব কম। উচ্চতাপে ইনফ্রারেড কুকারের ওপরের অংশ ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তাই বাজেট ভালো হলে অবশ্যই ইন্ডাকশন কুকার কেনা উচিত। আর যাদের বাজেট একটু কম তারা ইনফ্রারেড কুকার নিতে পারেন। বাংলাদেশের মার্কেটে ইন্ডাকশন কুকার ও ইনফ্রারেড কুকার দুটোরই দাম সাড়ে তিন হাজার থেকে ছয় হাজার টাকার মধ্যে।

