ঢাকা  রবিবার, ২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Homeউন্নয়নইইউ বাজারে বাংলাদেশের অগ্রগতি

ইইউ বাজারে বাংলাদেশের অগ্রগতি

গত পাঁচ বছরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)–এর সামগ্রিক পোশাক আমদানি প্রবৃদ্ধি সীমিত থাকলেও, একাধিক প্রধান প্রতিযোগীর তুলনায় ভালো করেছে বাংলাদেশ

সাম্প্রতিক (২০২৪–২০২৫) চিত্র

ইউরোস্ট্যাট–এর তথ্য অনুযায়ী,

  • ইইউর মোট পোশাক আমদানি ২.১০% বেড়ে ৮৮.১৫ বিলিয়ন ইউরো থেকে ৯০.০০ বিলিয়ন ইউরো হয়েছে।

  • বাংলাদেশ থেকে আমদানি বেড়েছে ৫.৯৭%, ১৮.৩২ বিলিয়ন থেকে ১৯.৪১ বিলিয়ন ইউরোতে।

  • চীন থেকে আমদানি বেড়েছে ১.১৭% (২৬.২৭ → ২৬.৫৮ বিলিয়ন ইউরো)।

  • তুরস্ক থেকে আমদানি কমেছে ১০.৭৩%।

অর্থাৎ বাজারের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি যেখানে ছিল প্রায় ২%, সেখানে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি প্রায় ৬%—যা তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থান নির্দেশ করে।

দীর্ঘমেয়াদি (২০২১–২০২৫) চিত্র

এই সময়ে—

  • ইইউর মোট পোশাক আমদানি বেড়েছে ২৪.৫৬% (৭২.২৫ → ৯০.০০ বিলিয়ন ইউরো)।

  • চীন থেকে আমদানি বেড়েছে ২১.৪৮%।

  • বাংলাদেশ থেকে আমদানি বেড়েছে ৩৫.৮১% (১৪.৩০ → ১৯.৪১ বিলিয়ন ইউরো)।

  • ভারত থেকে আমদানি বেড়েছে ৩৩.১৮%।

  • তুরস্ক থেকে আমদানি কমেছে ৯.৪৮%।

দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশ চীন ও তুরস্কের তুলনায় আপেক্ষিক অবস্থান শক্তিশালী করেছে।

শিল্পসংশ্লিষ্ট মতামত

বিজিএমইএ–এর সাবেক পরিচালক ও ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, বাজারের সীমিত প্রবৃদ্ধির মধ্যেও বাংলাদেশের প্রায় ৬% প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক সংকেত।

তবে তিনি সতর্ক করেন—

  • ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধ ছিল কঠিন; প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক দিকে যায়।

  • ইউরোপ ও চীন উভয়ই বছরটি নেতিবাচক প্রবণতায় শেষ করেছে।

  • চীনের মূল্যছাড় দেওয়ার সক্ষমতা বেশি হওয়ায় প্রতিযোগিতা তীব্র ছিল।

মূল্যচাপ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

ইউরোপে মূল্যচাপের কারণে পোশাকের দাম কমেছে। তবুও বাংলাদেশ পরিমাণের দিক থেকে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পেরেছে। ভিয়েতনাম ও তুরস্ক তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নীতিগত সহায়তা অব্যাহত থাকলে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির বড় অবনতি না হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আরও ভালো করতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

RELATED ARTICLES