স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে নজরদারির জন্য ২৫ হাজার বডি-ওর্ন ক্যামেরা এবং ৪১৮টি ড্রোন ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ২০তম বৈঠক শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা বডি ক্যামেরা ব্যবহার করবেন, যা তাৎক্ষণিক মনিটরিংয়ের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে সারা দেশে ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনে আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে। নির্বাচনের সময় আকাশপথে নজরদারির জন্য বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মোট ৪১৮টি ড্রোন মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে সেনাবাহিনী ব্যবহার করবে ২০০টি, বিজিবি ১০০টি, বাংলাদেশ পুলিশ ৫০টি, কোস্টগার্ড ২০টি এবং নৌবাহিনী, র্যাব ও বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ১৬টি করে ড্রোন পরিচালনা করবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বডি ক্যামেরা, ড্রোন এবং একটি কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা অ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। তিনি জানান, জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (এনটিএমসি) নির্মিত ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬’ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই অ্যাপটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। ফলে যে কোনো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদান ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি আরও জানান, সব আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নির্বাচন-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ আগামী ২০ জানুয়ারি ২০২৬ সালের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে, যা প্রথমবারের মতো সমন্বিতভাবে আয়োজন করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন বাহিনীর ডগ স্কোয়াড মোতায়েন করা হবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহার করে ব্যালট বাক্স, নির্বাচনী সরঞ্জাম এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দুর্গম ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এসব সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশব্যাপী একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

