ঢাকা  রবিবার, ১লা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ; ১৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Homeউন্নয়নআগামী ৫ বছরে ইউরোপে ১০ লাখ দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি করার পরিকল্পনা

আগামী ৫ বছরে ইউরোপে ১০ লাখ দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি করার পরিকল্পনা

দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং ইউরোপের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান দৃঢ় করতে আগামী ৫ বছরের জন্য একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে চারটি প্রবাসী সংগঠন যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলনে এই পরিকল্পনা উপস্থাপন করে।

সংবাদ সম্মেলনে ইতালবাংলা সমন্বয় ও উন্নয়ন সমিতি, বাংলাদেশ প্রবাসী উন্নয়ন সমিতি, বাংলাদেশী মাইগ্র্যান্ট ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন এবং বাংলাদেশ মাইগ্র্যান্টস ফাউন্ডেশন (বিএমএফ) অংশ নেয়। ইতালবাংলা সমন্বয় ও উন্নয়ন সমিতির সভাপতি শাহ মোহাম্মদ তাইফুর রহমান ছোটন বলেন, ইউরোপে বর্তমানে প্রায় এক কোটি দক্ষ শ্রমিকের ঘাটতি রয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে মাস্টারপ্ল্যানের মূল দিকগুলো হলো:

  • ২০২৬-২০৩১ সালের মধ্যে ইতালি, জার্মানি, ফ্রান্স ও রোমানিয়াসহ ইউরোপের দেশগুলোতে ১০ লাখ কর্মী প্রেরণ

  • প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিশেষ ইউরোপীয় উইং গঠন, যা সরাসরি ইইউ দেশগুলোর সঙ্গে জি-টু-জি চুক্তিতে কাজ করবে।

  • অবৈধ পথে ইউরোপ যাত্রা বন্ধ করে দেশেই আন্তর্জাতিক মানের কারিগরি ও ভাষা শিক্ষা নিশ্চিত করা।

  • হুন্ডি বন্ধ করতে আকর্ষণীয় প্রণোদনা এবং প্রবাসী বন্ড চালু করা।

  • প্রবাসীদের ভোটাধিকার, সংসদীয় কোটা এবং প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে অভিজ্ঞ প্রবাসী পেশাজীবীদের সম্পৃক্ত করে একটি শক্তিশালী ও পেশাদার ইউরোপীয় উইং গঠন করা জরুরি।

বিএমএফ চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জয় বলেন, প্রবাসী কর্মীদের জন্য সিন্ডিকেটমুক্ত কাঠামো ও কম খরচে অভিবাসন প্রক্রিয়া গড়ে তোলা হবে। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে দক্ষ কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় পুরোপুরি ঋণ হিসেবে প্রদানের প্রস্তাবও তিনি তুলে ধরেন।

বাংলাদেশি মাইগ্র্যান্ট ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী বলেন, দেশের দক্ষ জনশক্তি তৈরির জন্য বিএমইটির অধীনে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো কার্যকরভাবে চালু করা প্রয়োজন। এছাড়া জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার গুরুত্বও তিনি উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, পরিকল্পিত ও রাষ্ট্রীয় সহায়তায় বাস্তবায়িত এই মাস্টারপ্ল্যান দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়াবে এবং প্রবাসী কর্মীদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করবে।

RELATED ARTICLES